Azan Dua, Azan er Dua বা আজানের দোয়া—মুসলিমদের মধ্যে বহুল অনুসন্ধান করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আজান শোনার পর কী বলতে হয়, আজানের পর কোন দোয়া পড়তে হয়, বাংলা উচ্চারণ কী এবং এর অর্থ কী—এসব প্রশ্ন অনেকেরই থাকে।
সহিহ হাদিস অনুযায়ী, আজান শুনলে মুয়াজ্জিনের কথার জবাব দিতে হয়, এরপর নবী ﷺ-এর ওপর দরুদ পাঠ করতে হয় এবং তাঁর জন্য আল-ওয়াসিলাহ প্রার্থনা করতে হয়। সহিহ মুসলিমে এ নির্দেশ স্পষ্টভাবে এসেছে।
আর আজান শেষ হওয়ার পর যে প্রসিদ্ধ দোয়াটি পড়া হয়, সেটি সহিহ আল-বুখারির ৬১৪ নম্বর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।
আল্লাহুম্মা রব্বা হাযিহিদ দা‘ওয়াতিত তাম্মাহ, ওয়াস সালাতিল ক্বায়িমাহ, আতি মুহাম্মাদানিল ওয়াসীলাতা ওয়াল ফাদীলাহ, ওয়াব‘আসহু মাকামাম মাহমুদানিল্লাযী ওয়া‘আদতাহ।
হে আল্লাহ! এই পরিপূর্ণ আহ্বান এবং প্রতিষ্ঠিতব্য সালাতের রব! মুহাম্মদ ﷺ-কে ওয়াসিলা ও মর্যাদা দান করুন এবং তাঁকে সেই প্রশংসিত স্থানে অধিষ্ঠিত করুন, যার প্রতিশ্রুতি আপনি তাঁকে দিয়েছেন।
এই দোয়াটি আজান শোনার পর পড়ার ফজিলত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি এটি পড়বে, কিয়ামতের দিন তার জন্য তাঁর শাফাআত লাভের সুযোগ হবে।
Azan Er Dua — আজানের দোয়া কী?
সাধারণভাবে বাংলাদেশে “আজানের দোয়া” বলতে আজান শেষ হওয়ার পর পড়া এই দোয়াটিকেই বোঝানো হয়:
اللَّهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ...
এটি কোনো লোকমুখে প্রচলিত দোয়া নয়; বরং সহিহ হাদিসে এর সুদৃঢ় ভিত্তি রয়েছে।
জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ আজান শোনার পর এই দোয়া পড়ার নির্দেশনা দিয়েছেন এবং এর সঙ্গে শাফাআতের ফজিলতের কথাও উল্লেখ করেছেন।
Azaner Dua Bangla — আজানের দোয়া বাংলা উচ্চারণ
যারা আরবি পড়তে পারেন না, তাদের জন্য নিচে দোয়াটি বাংলা উচ্চারণে দেওয়া হলো:
* আরবি উচ্চারণ বাংলা অক্ষরে শতভাগ নিখুঁতভাবে প্রকাশ করা সব সময় সম্ভব নয়। তাই সম্ভব হলে শুদ্ধ আরবি উচ্চারণ শেখা উত্তম।
আজানের দোয়া আরবিতে
আজানের পরের দোয়ার আরবি হলো:
اللَّهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ، وَالصَّلَاةِ الْقَائِمَةِ، آتِ مُحَمَّدًا الْوَسِيلَةَ وَالْفَضِيلَةَ، وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَحْمُودًا الَّذِي وَعَدْتَهُ
— সহিহ আল-বুখারি: ৬১৪আজানের দোয়ার বাংলা অর্থ ও শব্দার্থ
দোয়াটির সহজ বাংলা অর্থ:
“হে আল্লাহ! এই পরিপূর্ণ আহ্বানের এবং প্রতিষ্ঠিত হতে যাওয়া সালাতের রব! মুহাম্মদ ﷺ-কে ওয়াসিলা ও শ্রেষ্ঠ মর্যাদা দান করুন এবং তাঁকে সেই প্রশংসিত স্থানে অধিষ্ঠিত করুন, যার প্রতিশ্রুতি আপনি তাঁকে দিয়েছেন।”
এখানে কয়েকটি শব্দের অর্থ জানা থাকলে পুরো দোয়াটি আরও সহজে বোঝা যায়:
| আরবি শব্দ | বাংলা অর্থ |
|---|---|
| الدعوة التامة | পরিপূর্ণ আহ্বান (তাওহীদের ডাক) |
| الصلاة القائمة | প্রতিষ্ঠিতব্য সালাত |
| الوسيلة | বিশেষ মর্যাদা / জান্নাতের সর্বোচ্চ উচ্চ মর্যাদা |
| الفضيلة | শ্রেষ্ঠত্ব ও অসীম মর্যাদা |
| مقاماً محموداً | প্রশংসিত স্থান বা মাকামে মাহমুদ (শাফাআতের সর্বোচ্চ স্থান) |
সহিহ মুসলিমে রাসুলুল্লাহ ﷺ ব্যাখ্যা করেছেন যে আল-ওয়াসিলাহ জান্নাতের এমন একটি মর্যাদা, যা আল্লাহর বান্দাদের মধ্য থেকে একজনের জন্য নির্ধারিত; তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে তিনিই সেই ব্যক্তি হবেন।
Dua After Azan — আজানের পর কী কী করতে হয়?
আজান শেষ হওয়ার পর শুধু একটি দোয়া পড়াই পুরো সুন্নাহ নয়। হাদিসগুলো একত্রে দেখলে ধারাবাহিক ৫টি আমল পাওয়া যায়:
আজানের জবাব দেওয়া
আজান শুনলে মুয়াজ্জিন যা বলেন, সাধারণভাবে শ্রোতাকেও তার অনুরূপ বলতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (সহিহ মুসলিম)।
“হাইয়া আলাস সালাহ” ও “হাইয়া আলাল ফালাহ”-এর জবাব
মুয়াজ্জিন যখন নামাজের বা কল্যাণের দিকে ডাকেন, তখন বলতে হয়: لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ (লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ)।
নবী ﷺ-এর ওপর দরুদ পাঠ করা
আজানের জবাব শেষ করে দরুদে ইবরাহিম বা যেকোনো দরুদ পড়া সুন্নাহ। যে ব্যক্তি একবার দরুদ পড়ে, আল্লাহ তার ওপর ১০টি রহমত নাযিল করেন (সহিহ মুসলিম)।
আজানের পরের দোয়া পাঠ
এরপর “আল্লাহুম্মা রব্বা হাযিহিদ দা‘ওয়াতিত তাম্মাহ...” দোয়াটি পড়া।
আজান ও ইকামতের মাঝে নিজের জন্য দোয়া করা
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ের দোয়া কখনো প্রত্যাখ্যাত হয় না।” (তিরমিজি)।
আজানের জবাব দেওয়ার সহজ তালিকা
| মুয়াজ্জিন যা বলেন | শ্রোতা জবাবে যা বলবেন |
|---|---|
| الله أكبر ، الله أكبر | الله أكبر ، الله أكبر |
| أشهد أن لا إله إلا الله | أشهد أن لا إله إلا الله |
| أشهد أن محمدًا رسول الله | أشهد أن محمدًا رسول الله |
| حي على الصلاة | لا حول ولا قوة إلا بالله |
| حي على الفلاح | لا حول ولا قوة إلا بالله |
| الله أكبر ، الله أكبر | الله أكبر ، الله أكبر |
| لا إله إلا الله | لا إله إلا الله |
আজানের দোয়ায় “ওয়াসিলা” ও “মাকামে মাহমুদ” বলতে কী বোঝায়?
আজানের দোয়ায় বলা হয়: آتِ مُحَمَّدًا الْوَسِيلَةَ — অর্থাৎ “মুহাম্মদ ﷺ-কে আল-ওয়াসিলাহ দান করুন।”
সহিহ মুসলিমে আল-ওয়াসিলাহ সম্পর্কে বলা হয়েছে, এটি জান্নাতের একটি অনন্য সর্বোচ্চ মর্যাদা, যা আল্লাহর সকল বান্দাদের মধ্য থেকে মাত্র একজনের জন্য উপযুক্ত এবং রাসুলুল্লাহ ﷺ আশা করেছেন যে তিনি সেই ব্যক্তি হবেন।
আর وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَحْمُودًا অর্থ “তাঁকে প্রশংসিত স্থানে অধিষ্ঠিত করুন।” এটি এমন এক সম্মানজনক মর্যাদা যেখানে হাশরের ময়দানে সমগ্র সৃষ্টির সামনে রাসুলুল্লাহ ﷺ মহান আল্লাহর অনুমতিতে প্রধান শাফাআত (শাফাআতে কুবরা) করবেন।
৫ ওয়াক্ত সালাতের আজানের দোয়ার নিয়ম
- ফজরের আজান: ফজরে অতিরিক্ত “আস-সালাতু খাইরুম মিনান নাওম” বলা হলেও আজান শেষ হওয়ার পর একই দোয়া পড়তে হয়।
- মাগরিব, এশা, যোহর ও আসর: সব ওয়াক্তের জন্যই একই আজানের দোয়া নির্ধারিত। কোনো ওয়াক্তের জন্য আলাদা দোয়া নেই।
- মহিলাদের বিধান: নারীরাও ঘরে আজান শুনলে আজানের জবাব দেবেন, দরুদ পাঠ করবেন এবং আজানের দোয়া পড়বেন।
আজানের দোয়া মুখস্থ করার সহজ ৪টি ধাপ
আল্লাহুম্মা রব্বা হাযিহিদ দা‘ওয়াতিত তাম্মাহ
ওয়াস সালাতিল ক্বায়িমাহ
আতি মুহাম্মাদানিল ওয়াসীলাতা ওয়াল ফাদীলাহ
ওয়াব‘আসহু মাকামাম মাহমুদানিল্লাযী ওয়া‘আদতাহ
Azan Dua নিয়ে সাধারণ ভুল ধারণা
আজানের পরের দোয়াটি গুরুত্বপূর্ণ, তবে তার পূর্বে আজানের জবাব দেওয়া এবং নবী ﷺ-এর ওপর দরুদ পাঠ করাও সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত।
সহিহ বুখারির মূল পাঠে যতটুকু বর্ণিত হয়েছে, হুবহু ততটুকু আমল করাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও সুন্নাহসম্মত।
আজানের নির্দিষ্ট দোয়া পড়ার জন্য হাত তোলা শর্ত বা আবশ্যিক নয়। তবে আজান-ইকামতের মাঝে সাধারণ নফল দোয়ায় হাত তোলা যেতে পারে।
Azan Dua — Frequently Asked Questions (FAQ)
১. Azan Dua কী? ▼
২. Azan Er Dua বাংলায় কী? ▼
৩. Azaner Dua Bangla অর্থ কী? ▼
৪. Dua After Azan কখন পড়তে হয়? ▼
৫. আজানের দোয়া পড়ার ফজিলত কী? ▼
৬. আজানের সময় কী বলতে হয়? ▼
৭. আজানের পরে কি নিজের জন্য দোয়া করা যায়? ▼
৮. পাঁচ ওয়াক্ত আজানের দোয়া কি একই? ▼
৯. মহিলারা কি আজানের দোয়া পড়তে পারবেন? ▼
শেষ কথা
Azan Dua বা আজানের দোয়া পাঠ করা রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর ভালোবাসার প্রতীক এবং কিয়ামতের দিন তাঁর মহা শাফাআত লাভের শ্রেষ্ঠ উসিলা। আজান শুনলে কথা বন্ধ রেখে আজানের জবাব দিন, নবী ﷺ-এর ওপর দরুদ পড়ুন এবং এই মোবারক দোয়াটি পাঠ করুন।